অডেস্ক থেকে অর্থ প্রাপ্তি অনেক সহজ কাজ কারণ এখানে ৫টি পদ্ধতি রয়েছে টাকা পাওয়ার। তার একটি হলো পেওনিয়ার। বাংলাদেশে অথবা সেসব দেশে যেখানে পেপেল সুবিধা নেই সেখানে অনলাইনের টাকা পাওয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি হচ্ছে পেওনিয়ার প্রিপেড ডেবিট কার্ড।
(প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো – বাংলাদেশে পেপাল আসছে এ বছরের শেষ দিকে এবং কোন মাদ্ধম ছাড়া সরাসরি আপনার ব্যাংক একাউন্ট এ টাকা আনার ব্যাবস্থা ও চালু হতে যাচ্ছে একি সময়ে।)
বিভিন্ন ধরনের ফ্রিল্যান্সিং সাইট থেকেও টাকা উত্তোলনের সহজ এবং ঝামেলামুক্ত পদ্ধতি হচ্ছে Payoneer সাইট কর্তৃক প্রদত্ত একটি ডেবিট মাস্টারকার্ড। এই পদ্ধতিতে মাস শেষে আপনি টাকা খুবই দ্রুত পৃথিবীর যেকোন স্থান থেকে ATM এর মাধ্যমে উত্তোলন করতে পারেন। এজন্য এককালীন খরচ পড়বে ২০ ডলার আর সাইটির মাসিক ব্যবস্থাপনা ফি ৩ ডলার। ATM থেকে প্রতিবার টাকা উত্তোলনের জন্য খরচ পড়বে ২.১৫ ডলার + উত্তোলনকৃত অর্থের ৩%। এই কার্ড দিয়ে টাকা উত্তোলনের পাশাপাশি অনলাইনে কেনাকাটাও করতে পারবেন। এমনকি এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থিত আপনার কোন আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধব তাদের মাস্টারকার্ড বা ভিসা কার্ড থেকে আপনাকে টাকা পাঠাতে পারবে।
পেওনার সাইট থেকে সরাসরি এই কার্ডের জন্য আবেদন করা যায় না। এটি পেতে হলে ফ্রিল্যান্সিং যে কোন একটি সাইট (রেন্ট-এ-কোডার, গেট-এ-ফ্রিল্যান্সার বা ওডেস্ক)-এ আপনার একটি একাউন্ট থাকতে হবে।
পেওনিয়ার প্রিপেড ডেবিট কার্ড কি?
এটি অন্য সব ক্রেডিট কার্ডের মতই, এটি একটি বাস্তব কার্ড (ভার্চুয়াল নয়), এটি অন্য সকল প্লাস্টিক কার্ডের মতই কাজ করে, এটি একটি প্রিপেড বা ডেবিট কার্ড আর এরজন্যে আপনার কোন ব্যাংক একাউন্টও থাকা প্রয়োজন নয়। এটি আপনার অডেস্ক প্রোফাইলের সাথে সংযুক্ত থাকে আর আপনি আপনার অডেস্ক ইনকাম ডেবিট কার্ডে নিয়ে আসতে পারেন।
কিভাবে অডেস্ক মাস্টারকার্ডের জন্যে আবেদন করবেন?
অডেস্কে গিয়ে পেমেন্ট মেথড্-এ প্রবেশ করে “অডেস্ক ডেবিট কার্ড পাওয়ারড্ বাই পেওনিয়ার”-এর জন্যে সাইন-আপ করেন। আপনার বিবরণ দিন, ফর্মটি ভালোভাবে পূরণ করেন আর এরপর আপনি একটি সিকিউরিটি ডকুমেন্ট দাখিল করবেণ। এখানের দ্বিতীয় এড্রেসটি বা ঠিকানাটি হচ্ছে আপনার সেই ঠিকানা যেখানে পেওনিয়ার তাদের মাস্টারকার্ডটি আপনার নিকট পাঠাবে। আপনি এ ঠিকানাটি ব্যবহার করতে পারেন বিল পরিশোধ ঠিকানা হিসেবে অথবা শিপিং ঠিকানা হিসেবেও। ফর্মের তৃতীয় ভাগে, আপনার পাসওয়ার্ড নাম্বার/ড্রাইভিং লাইন্সেস নাম্বার/জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার(ভোটার আইডি যদি থাকে) জানতে চাওয়া হবে।
এপলিকেশন বা আবেদনটি দাখিল করার পর, পেওনিয়ার আপনার বিবরণ যাচাই করে দেখবে আর আপনি যদি অডেস্ক প্রিপেড মাস্টারকার্ড পাওয়ারড্ বাই পেওনিয়ার পাওয়ার যোগ্য হন তবে তারা কার্ড পাঠাতে রাজি হবে।
একবার আপনার আবেদন সম্মতি পেয়ে গেলেই তারা সাধারণ ডাক মাধ্যমে আপনার কার্ডটি আপনার নিকট পাঠিয়ে দিবে।
প্রশ্নঃ আমি কি অডেস্ক ডেবিট মাস্টার কার্ডের জন্যে আয় রোজগার বা চাকরী পাওয়ার আগে আবেদন করতে পারবো ?
উত্তরঃ অবশ্যই আপনি আবেদন করতে পারেন, কিন্তু আমার মনে হয় না যে পেওনিয়ার এই আবেদনটি গ্রহণ করবে। কারণ, আপনাকে কার্ড দেওয়ার জন্যে তারা একটাই লাভ পায় সেটা হলো আপনার কাছ থেকে পাওয়া মাসিক চার্জ। যদি কোন আয় রোজগারই নেই, তবে মাস্টারকার্ড নেওয়াটাও অহেতুক।
প্রশ্নঃ আমি কি বাংলাদেশ থেকে অডেস্ক পেওনিয়ার ডেবিট মাস্টারকার্ড-এর জন্যে আবেদন করে কার্ড পেয়ে যাবো?
উত্তরঃ হ্যাঁ। আপনি পেয়ে যাবেন আর বাংলাদেশে ইতোমধ্যে হাজার হাজার ফ্রি-লেন্সার বা অস্থায়ী কর্মী অডেস্কে কাজ করছে। একটি হিসেব অনুযায়ী এ পরজন্ত ৭২০০০০ ঘন্টা কাজ হয়েছে বাংলাদেশ থেকে যা অডেস্ক এর কাজের ১২%।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশে অডেস্ক পেওনিয়ার ডেবিট মাস্টারকার্ড পেতে কত সময় লাগতে পারে ?
উত্তরঃ অডেস্ক ডেবিট কার্ডটি আপনার ঠিকানায় সাধারণ ডাক দ্বারা পাঠানো হবে(কোন বানিজ্যিক ডাক। যেমনঃ ফেডেক্স কিংবা ইউপিএস-এ নয়) আর এতে তোমার ঠিকানায় কার্ডটি পৌছাতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লেগে যেতে পারে। (অনেক সময় কার্ড আসে না ডাক বিভাগের কারনে) আরো দ্রুত আনতে পাড়েন ডিইচ এল এর মাদ্ধমে - ৩-৫ দিন লাগবে।
প্রশ্নঃ অডেস্ক ডেবিট কার্ড পাওয়ারড্ বাই পেওনিয়ার-এর মাসিক চার্জ আর উত্তোলন চার্জ কত?
উত্তরঃ নুন্যতম উত্তোলন চার্জ হবে ২ ডলার আর ফি ২ ডলার প্রতি উত্তোলনে। তোমার ডেবিট কার্ডের মাসিক চার্জ ৩ ডলার। তবে একধিক উত্তোলন হলে ১ ডলার মাসিক।
প্রশ্নঃ “অডেস্ক ডেবিট কার্ড পাওয়ারড্ বাই পেওনিয়ার” ব্যবহার করে টাকা উঠানোর জন্যা আমি কোথায় এটিএম কেন্দ্র খুঁজে পাবো?
উত্তরঃ আপনি যেকোন এটিএম কেন্দ্র বা বুথ্ থেকে অডেস্ক ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে টাকা উঠাতে পারো। এই কার্ডটি অধিকাংশ এটিএম বুথ-এ কার্যকর যেমনঃ-ডাচ্-বাংলা ডিবিবিএ্ল, প্রাইম ব্যাংক,স্টেন্ডারড চাটারড ব্যাংক, ব্রেক বেঙ্ক-এর এটিএম বুথ। অর্থাৎ যেখানে মাস্টার কার্ড এর লোগো আছে , সেখানেই উত্তোলন করতে পারবেন। (ব্রেক এ ইদানিং শুনেছি কিছু কিছু যায়গায় সমস্যা হচ্ছে।)
প্রশ্নঃ আমি কি এই কার্ডটি দিয়ে অনলাইনে ক্রয়ের অথবা খরচের কাজে ব্যবহার করতে পারবো?
উত্তরঃ হ্যা। আপনি এই কার্ডটি দিয়ে অনলাইনে ক্রয় অথবা খরচে ব্যবহার করতে পারবে। বাড়তি কোন ফি দিতে হবে না।
প্রশ্নঃ আমি কি এই কার্ডটি দিয়ে আমার দেশের দোকান গুলোতে ক্রয়ের কাজে ব্যবহার করতে পারবো?
উত্তরঃ হ্যা। আপনি এই কার্ডটি দিয়ে যেকোনো দোকান, যেখানে মাস্টার কার্ড এর লোগো আছে, ক্রয়এর কাজে ব্যবহার করতে পারবে। বাড়তি কোন ফি দিতে হবে না। কেনার পর একটা রিসিট পাবেন। মিলিয়ে দেখুন আপনার কেনাকাটার টাকার অঙ্ক ঠিক আছে কিনা। অতপর সিগ্নেচার করে দিয়ে দিন। অনুরুপ একটা রিসিট আপনার সংরক্ষণ এর জন্ন আপনাকে দেয়া হবে।
প্রশ্নঃ অডেস্কের ডেবিট মাস্টারকার্ডের চার্জটি কি খুব বেশি নয়?
উত্তরঃ যদি আপনি সপ্তাহে মোটামুটি আয় করে থাকেন, তবে এই খরচটি আপনাকে ভাবাতে পারবে না। অন্তত, এতো ভালো সুযোগ-সুবিধা আপনি খুব নুন্যতম মুল্যে পাচ্ছেন।
আমি এপ্লাই করেছি কিন্তু কারড পাচ্ছি না কেন?
রেগুলার মেইল এ কার্ড আসার সময় হলো সবোচ্চ ৩৫ দিন। সাধারনত আরো আগেই আসে। এর খরচ নেই। ফ্রী। আর খুব দ্রুত কারড আনতে চাইলে ডি এইচ এল এর মাদ্ধমে আনা জাবে।৪ থেকে ৫ দিন লাগবে। খরচ ৬০ ডলার। (পারসেল টাকে ট্রেক করা যাবে)
কারড আনার জন্য কত টাকা থাকতে হবে একাউন্ট এ?
২০ ডলার এর মতো।
কার্ড এর খরচ কেমন?(বিস্তারিত)
$৯.৯৫ – এক্টিভেশন
$২ - ওডেস্ক থেকে উইথড্র (কার্ড এ টাকা ট্রান্সফার)
কার্ড এ লোড ঃ
১। Immediate load - $২
২। Normal load – ফ্রী (২ দিন লাগবে)
$ ২.১৫ - এটিএম থেকে উইথড্র (বেশি উইথড্র না করাই তাই ভালো। যেমন মাসে ২/১ বার)$১-৩ - মাসিক Card Maintenance
জা উইথড্র করবেন ৩% কাটা হবে।
$১২.৯৫ - Card replacement
$0.৯০ – এটিএম বেলেন্স চেক।
$0.৯০ – এটিএম বেলেন্স ডিক্লাইন।(টাকা না থাকলে উইথড্র দিতে জাবেন না। এটিএম কার্ড গিলে ফেলতে পারে।)
দোকান থেকে কেনা কাটা – ফ্রী (মানে কার্ড দিয়ে জখন কেনা কাটা করবেন)
কার্ড হারিতে/চুরি হলে সাথে সাথে পেওনিয়ার এর নাম্বার এ ফোন দিয়ে জানান। ওরা ব্লক করে দিবে। (নাম্বার তাই সাথে রাখুন।)
সুবিধাঃ
১) সারা প্রিথিবির প্রায় সব এটিএম এবং দোকান এ গ্রহন যজ্ঞ
২) পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড আছে ইউ এস ডলার এ। কনভারট করা জায় নিজের দেশের currency তে।
৩) খুব দ্রত উত্তোলন - টাকা আসভে এক ঘন্টা লাগে।
৪) নিরাপদ - খুব ই নিরাপদ, পেপাল এর মত।
৫) শিপিং - ঘরের দরজায় কার্ড দিয়ে জায় বিনামুল্যা।
৬) লোডিং - ইমেইল বা কার্ড নাম্বার দিয়ে ইজি লোড।
৭) অন্ন পেওনিয়ার কার্ড থেকে টাকা transfer করা জায়।
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আজ এই টুকু। সময় স্বল্পতার কারনে হয়তো ভালো ভাবে করা গেলো না। ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। মতামত জানালে খুশি হবো। সাথেই থাকুন।
ধন্নবাদ।
হাসান তানভীর
অডেস্কার
www.nextfuture2.wordpress.com
বিঃদঃ (১) কোন ভুল পেলে জানানোর জন্য বিণিত অনুরোধ রইলো।
(২)অডেস্ক পেওনিয়ার ডেবিট মাস্টারকার্ড সম্পর্কে বাংলাদেশে অনেক গুজব রয়েছে। এডিয়ে চলুন।
সহায়তা ঃ http://www.blogkori.com
ভিডিও দেখুন ঃ http://www.youtube.com/watch?v=Q7BgdGiXJXU
অডেস্ক পেওনিয়ার কেইস স্টাডি (ইংরেজি)ঃ http://www.payoneer.com/CS-oDesk.aspxপেওনিয়ার
অডেস্ক ফোরাম ঃ https://www.odesk.com/community/search/node/payoneer%20bangladesh
কথা বলুন পেওনিয়ার এ (লাইভ চ্যাট) ঃ http://www.payoneer.com/contactUs.aspx
একটি অভিজ্ঞতা (বাংলা) ঃ http://www.somewhereinblog.net/blog/hemonterghran/29377491

















